আওয়ামী লীগ নেতা আহমদ হোসেনের সঙ্গে ছবি,জামায়াতের অধ্যাপক মাছুম মোস্তফাকে ফুলেল সংবর্ধনা,আবার খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক পরিচয়—প্রশ্নের মুখে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার প্রকৃত চিত্র
শেখ সেলিম রেজা, বিশেষ প্রতিনিধি :-নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার শুয়াইব আহমেদকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি,পরিচিতি ও একাধিক অভিযোগ সামনে আসায় তাঁর রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড নিয়ে অনুসন্ধানের দাবি উঠেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিস্থলে উপস্থিতির ছবি,আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য আহমদ হোসেনের সঙ্গে ছবি,বর্তমান এমপি জামায়াতের অধ্যাপক মাছুম মোস্তফাকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করার দৃশ্য এবং মাওলানা মামুনুল হকের ছবি সংবলিত ব্যানার—সব মিলিয়ে আলোচনায় এসেছে তাঁর বিভিন্ন সময়ের সামাজিক ও রাজনৈতিক যোগাযোগের বিষয়টি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত পরিচিতিতে শুয়াইব আহমেদ নিজেকে মানবসেবা ফাউন্ডেশনের সভাপতি এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেত্রকোনা জেলা শাখার সমাজকল্যাণ সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করেছেন বলে দেখা যায়।
কিন্তু এসব ছবি ও পরিচিতির পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট কী? কোন সময়ে, কোন উদ্দেশ্যে এবং কী ভূমিকা নিয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানগুলোতে অংশ নিয়েছিলেন? তাঁর রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সম্পৃক্ততার ধারাবাহিকতা কী—এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে প্রয়োজন নির্ভরযোগ্য নথি,সংশ্লিষ্ট সংগঠনের বক্তব্য এবং তাঁর নিজের ব্যাখ্যার প্রয়োজন ছিলো,তাই জাতীয় দৈনিক শেষ সংবাদ অনুসন্ধানী টিম শুয়াইব আহামেদ এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করতে চাইলে তিনি কোন কথা বলতে রাজি হয়নি।বারবার ফোন দিলেও তিনি সাংবাদিকদের সাথে কথা বলবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন।তাই অনুসন্ধানী টিমের শুয়াইব আহামেদ এর বক্তব্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।
নির্বাচনী অর্থায়ন নিয়ে বিস্ফোরক দাবি, এর প্রমাণ কোথায়?প্রমাণের সূত্র‘পূর্বধলার নিউজ বুলেটিন’ নামের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে দাবি করা হয়েছে, ২০২৩ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আহমদ হোসেনের নির্বাচনে শুয়াইব আহমেদ বড় অঙ্কের অর্থ সহায়তা দিয়েছিলেন।একই পোস্টে ২০২৬ সালের নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক মাছুম মোস্তফার পক্ষে বিপুল অর্থ ব্যয়ের অভিযোগও তোলা হয়েছে।
দাবিগুলো সত্য হলে নির্বাচনী অর্থায়নের উৎস কি?অর্থের পরিমাণ এবং ব্যয়ের প্রকৃতি সম্পর্কে প্রশ্ন উঠতেই পারে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যই এসব অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করে না তাই শুয়াইব আহামেদ এর অর্থের উৎসাহ খুঁজতে মাঠে কাজ করছে অনুসন্ধানী টিম।আর নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবের তথ্য ও আর্থিক লেনদেনের নথি এবং সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের বক্তব্য যাচাই ছাড়া অর্থের পরিমাণ বা শুয়াইব আহমেদের ভূমিকা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়,তাই অনুসন্ধানী টিম কাজ করছে মাঠে। উক্ত ঘটনার তথ্য খুঁজতে গিয়ে বেরিয়ে এসে অনুসন্ধানী টিমের হাতে না জানা আরও অনেক কিছু তথ্য।
শুধু তাই হেনা জামানের সঙ্গে ব্যবসায়িক বিরোধ: অভিযোগের সত্যতা যাচাই করাটাও অনেক জরুরি, তাই এই বিষয় গুলো নিয়ে মাঠে কাজ করছে অনুসন্ধানী দল।
নারী উদ্যোক্তা হেনা জামানের সঙ্গে ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিরোধের অভিযোগও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ওই পোস্টগুলোতে অর্থ আত্মসাৎ, স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া এবং গার্মেন্টস কারখানা দখলের অপচেষ্টার অভিযোগ তোলা হয়েছে।
এগুলো গুরুতর অভিযোগ। অভিযোগ গুলোর সত্যতা নির্ধারণে ব্যবসায়িক চুক্তি, ব্যাংক লেনদেনের তথ্য, স্ট্যাম্পের নথি, কারখানার মালিকানা-সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং মামলার নথি পত্র ও চলছে যাচাই-বাছাই করা দরকার। হেনা জামানের বক্তব্যের পাশাপাশি শুয়াইব আহমেদের জবাবও নেওয়া জরুরি।কিন্তু কোন ভাবেই উনার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি সরাসরি কোন কথা বলতে রাজি নন।
একই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে মাদক-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও তোলা হয়েছে শুয়াইব আহামেদ এর বিরুদ্ধে। তবে এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য সরকারি নথি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ পাওয়া না গেলে অভিযোগটিকে সত্য হিসেবে প্রচার করা যায় না। তাই উক্ত বিষয়টির সত্যতা যাচাই করার কাজ করছে অনুসন্ধানী টিম।
বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও কর্মসূচির সঙ্গে তাঁর উপস্থিতির প্রেক্ষাপট কী?বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসে তাঁর ঘোষিত পদ ও দায়িত্বের আনুষ্ঠানিক ভিত্তি কী?নির্বাচনী অর্থায়ন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত দাবির বিষয়ে তাঁর বক্তব্য কী?
– হেনা জামানের সঙ্গে ব্যবসায়িক বিরোধের প্রকৃত কারণ কী, এবং এ বিষয়ে কোনো মামলা বা আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি কোন কথা বলতে রাজি নন।
জাতীয় দৈনিক শেষ সংবাদ-এর অনুসন্ধানী প্রশ্ন—শুয়াইব আহমেদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পরিচয়ের প্রকৃত ভিত্তি কী, নির্বাচনী অর্থায়ন নিয়ে প্রকাশিত দাবির সত্যতা কতটুকু এবং হেনা জামানের সঙ্গে ব্যবসায়িক বিরোধের নেপথ্যে কী ঘটেছে? এসব প্রশ্নের উত্তর আসুক নথি, নির্ভরযোগ্য তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্যের ভিত্তিতে। এমনটাই আশা করছেন সোশ্যাল মিডিয়ার দর্শক ও পৃর্বধলাবাসী।