• সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় অবৈধভাবে মজুদ করা ১ হাজার ৫০০ বস্তা সার জব্দ, গুদাম সিলগালা। জনসেবায় ভূমি সহকারী কর্মকর্তাবৃন্দের দায়িত্ব ও কর্মপরিধি কুষ্টিয়া ওলামায়ে পরিষদ আয়োজিত কোরআন প্রতিযোগিতায় আব্দুর রহমানের কৃতিত্ব  দর্শনায় রামাযুস আয়োজিত হাসান স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের নক আউট পর্বের শেষ খেলা অনুষ্ঠিত  নদী যখন যুদ্ধের অস্ত্র: একাত্তরের নৌ-অভিযানের সামরিক পাঠ আদালত ও পুলিশের নির্দেশ অমান্য করে দর্শনায় বৃদ্ধ চা দোকানির জমি দখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত  দর্শনায় আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত দর্শনা পৌর এলাকার ৫টি পূজা মন্দির পরিদর্শন করে আর্থিক অনুদান দিলেন আলহাজ্ব মশিউর রহমান  দর্শনায় পৌর বিএনপির সভাপতি হিসাবে মাহবুবুল ইসলাম খোকনকে ঘিরে আলোচনা চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের ৫৪টি পূজা মন্দিরে বিজেএমইএ’র সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবুর আর্থিক অনুদান প্রদান 

পীরগাছায় অসুস্থ গরুর মাংস বাজারজাতের অভিযোগ,নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর / ৬৯ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,রংপুর:

রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় অসুস্থ ও রোগাক্রান্ত গরু জবাই করে মাংস বাজারজাতের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একটি চক্র কম দামে অসুস্থ গরু কিনে জবাই করে তুলনামূলক কম দামে মাংস বিক্রি করছে। এতে জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে অভিযুক্তরা অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তারা সুস্থ গরু জবাই করেই মাংস বিক্রি করেন।

অভিযোগে ফজলু ও শাহাজান নামের দুই ব্যক্তির অর্থ বিনিয়োগের তাদের সঙ্গে জাকির হোসেন নামে এক কসাইয়ের যৌথভাবে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। জাকির হোসেন পীরগাছার পারুল ইউনিয়নের মনুসচড়া গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম কেরামত আলী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অসুস্থ গরু কম দামে কিনে জবাই করার পর প্রতি কেজি প্রায় ৬২০ টাকা দরে মাংস বিক্রি করা হচ্ছে। তাদের দাবি, রংপুর মহাসড়কের পাশে কয়েকটি হোটেল ও রেস্তোরাঁয় প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ মাংস সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে আম্মাজান হোটেলে প্রতিদিন প্রায় এক থেকে দেড় মণ মাংস বিক্রির অভিযোগও রয়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে জবাই করা গরুর মাংস দেখে প্রতিবেদকের কাছে মাংসের স্বাভাবিকতার বিষয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। মাংস স্যাঁতসেঁতে দেখা যায় এবং দুর্গন্ধও পাওয়া যায় বলে প্রতিবেদকের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে। এছাড়া জাকির হোসেনের বাড়িতে ডিপ ফ্রিজে মাংস সংরক্ষণ করা হয় বলেও জানা গেছে। তবে সংরক্ষিত মাংস অসুস্থ পশুর কি না, তা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

অভিযুক্ত জাকির হোসেন বলেন, তিনি নিয়মিত একটির বেশি গরু জবাই করেন না এবং সব সময় ভালো ও সুস্থ গরু জবাই করে মাংস বিক্রি করেন। অসুস্থ গরুর মাংস বিক্রি কিংবা ফ্রিজে অবৈধভাবে মাংস মজুতের অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।

অভিযুক্তদের দাবি, পীরগাছা উপজেলায় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার শাকিল কিংবা সংশ্লিষ্ট স্যানিটারি কর্মকর্তাদের লোকজন গত তিন মাস ধরে নিয়মিত তদারকি করেননি। তবে তারা এ সুযোগে কোনো অনিয়ম করছেন—এ অভিযোগও তারা প্রত্যাখ্যান করেছেন।

সরকারি প্রকল্পের আওতায় গরু জবাইয়ের আগে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতেন সাবেক কর্মী রাশেদুল ইসলাম (রঞ্জু)। তিনি জানান, গত জুন মাসে প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। এরপর থেকে নিয়মিত তদারকির ব্যবস্থা না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিতে পারেন বলে তিনি মনে করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, যথাযথ তদারকি না থাকায় অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এমনকি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মাংস বা নগদ অর্থ উৎকোচ নেওয়ার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী।
এদিকে পীরগাছা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার শাকিল এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট স্যানিটারি কর্মকর্তাদের দায়ী করে নিজের দায় এড়িয়ে যান।

সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগগুলো তদন্ত করে গরুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা, জবাইয়ের অনুমোদন, মাংস সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে সরকারি বিধি যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করা হোক। একই সঙ্গে অভিযোগ সত্য হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা