• রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় অবৈধভাবে মজুদ করা ১ হাজার ৫০০ বস্তা সার জব্দ, গুদাম সিলগালা। জনসেবায় ভূমি সহকারী কর্মকর্তাবৃন্দের দায়িত্ব ও কর্মপরিধি কুষ্টিয়া ওলামায়ে পরিষদ আয়োজিত কোরআন প্রতিযোগিতায় আব্দুর রহমানের কৃতিত্ব  দর্শনায় রামাযুস আয়োজিত হাসান স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের নক আউট পর্বের শেষ খেলা অনুষ্ঠিত  নদী যখন যুদ্ধের অস্ত্র: একাত্তরের নৌ-অভিযানের সামরিক পাঠ আদালত ও পুলিশের নির্দেশ অমান্য করে দর্শনায় বৃদ্ধ চা দোকানির জমি দখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত  দর্শনায় আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত দর্শনা পৌর এলাকার ৫টি পূজা মন্দির পরিদর্শন করে আর্থিক অনুদান দিলেন আলহাজ্ব মশিউর রহমান  দর্শনায় পৌর বিএনপির সভাপতি হিসাবে মাহবুবুল ইসলাম খোকনকে ঘিরে আলোচনা চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের ৫৪টি পূজা মন্দিরে বিজেএমইএ’র সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবুর আর্থিক অনুদান প্রদান 

বরিশাল জেলা রেজিস্ট্রার মোহছেন মিয়ার দুই ক্যাশিয়ার মহাদেব সাহা ও হালিম সিপাহীর দিন কাটছে মারাত্মক ব্যস্ততায়

স্টাফ রিপোর্টার: / ১২৭ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬

১লা সেপ্টেম্বর ২০২৬ অবসরে যাবেন বরিশাল জেলা রেজিস্ট্রার মোহছেন মিয়া। হাতে সময় মাত্র ৬০ কর্মদিবস। তাই শেষ সময়ে বেড়েছে ঘুষের রেট। ব্যস্ততা বেড়েছে ডিআর এর টাকা কালেকশনের দায়িত্বে নিয়োজিত জেলা রেজিস্ট্রি অফিসের প্রধান সহকারী মহাদেব সাহা ও অফিস সহায়ক হালিম সিপাহীর। তারা ৫ কর্মদিবসে সকাল থেকে ছুটছেন সন্ধ্যা পর্যন্ত ডিআর মোহছেন মিয়ার ( বর্তমানে এআইজিআর) মিশন সাকসেস করতে।।

এদিকে শেষ সময়ে বর্ধিত হারের ঘুষ বাণিজ্যের কারণে বরিশাল সদর সাবরেজিস্ট্রার অফিস ও দশটি উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার অফিসের সকল অনিয়ম এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। বদলি বাণিজ্য, দলিল প্রতি ঘুষ, নকল উঠাতে ঘুষ ও দলিল লেখক এবং নিকাহ রেজিস্ট্রারদের থেকে বাৎসরিক নবায়ন ও নতুন লাইসেন্স প্রদানের নামে টাকা নেওয়া এখন ওপেন সিক্রেট হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবৈধভাবে এসব টাকা হাতিয়ে নেয় মহাদব সাহা ও হালিম সিপাহী। এরপর কালেকশনকৃত সেসব টাকা থেকে দুজন কিছুটা কর্তন করে বাকি টাকা তুলে দেন জেলা রেজিস্ট্রার মোহছেন মিয়ার ঝুলিতে। মোহছেন মিয়ার বিরুদ্ধে ঘুস বাণিজ্যের অভিযোগে গত বছরের ১৬ই এপ্রিল অভিযান চালায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তবে অভিযানের খবর টের পেয়ে সটকে পড়ে সুচতুর মোহছেন মিয়া।

 

মাগুরা,দিনাজপুর,ময়মনসিংহের মতো, বরিশাল জেলার আওতাধীন কর্মকর্তাদের বদলির নামে বাণিজ্য করে আসছেন মোহছেন মিয়া। এছাড়া দলিল প্রতি ৩শ টাকা, নকল উঠানো বাবদ ১০০ টাকা করে আদায় করেন মোহছেন মিয়া। নেপথ্যের কারিগর সেই মহাদেব সাহা ও হালিম সিপাহী।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাবরেজিস্ট্রার অফিসের একাধিক কর্মচারী বলেন, মোহছেন মিয়া বরিশালে যোগদানের পর থেকেই বদলি বাণিজ্য করছেন। ৫ থেকে ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়ে এসব বদলি করেন তিনি। এছাড়া বরিশাল সাবরেজিস্ট্রার অফিসে তিনশত দলিল লেখক রয়েছে, তাদের কাছ থেকে বাৎসরিক লাইসেন্স নবায়ন বাবদ ২ হাজার করে টাকা নেয় মোহছেন মিয়া।

 

বরিশাল সদর অফিস থেকে দুর্নীতির দায়ে বদলি হওয়া শাহিনকে ৪ লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে আবারও অফিস সহকারী হিসাবে যোগদান করায় মোহছেন মিয়া। ঘুষের টাকা না পেয়ে মিজানুর রহমান নামের এক অফিস সহকারীকে বদলি করায় প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন ওই ভুক্তভোগী। আর রেকর্ড কিপার বিধান চন্দ্রকে ৪ লাখ টাকার বিনিময়ে বরিশাল সদর অফিসে বদলি করা হলেও একমাস পরে যোগদান করতে হয় তাকে। এরপর যোগদানের দু’মাস পরেই বিধান চন্দ্র সুতারকে হিজলায় বদলি করেন বরিশাল জেলা রেজিস্ট্রার মোহছেন মিয়া।

সম্প্রতি হিজলা উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার অফিসের নকলনবিশ দিলিপ চন্দ্রকে মোহরার পদে পদোন্নতি দেওয়ার বিনিময়ে ১০ লাখ টাকা ঘুষ নেয় মোহছেন মিয়া।
এছাড়া আগৈলঝাড়া সাবরেজিস্ট্রার অফিসের অফিস সহকারী ফাতেমাতুজ জোহরাকে ৮ লাখ টাকার বিনিময়ে পদোন্নতি দেওয়ার বন্দোবস্ত করেন জেলা রেজিস্ট্রার মোহছেন মিয়া।

 

বরিশাল সাবরেজিস্ট্রার অফিসের সাবেক পিওন জাহাঙ্গীর হোসেন অবসরে যাওয়ার সময় তার পেনশনের টাকা উঠানোর জন্য ছয় লাখ টাকা ঘুষ দাবি করে মোহছেন মিয়া। পরে তার ছেলে জাহিদের মাধ্যমে চার লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে মোহছেন মিয়ার সঙ্গে রফাদফা করতে বাধ্য হয় পিয়ন জাহাঙ্গীর। মোহছেন মিয়ার এসব ঘটনায় ঢাকা আইজিআর অফিসে অভিযোগ গেলেও লালন নামের তৎকালীন এক অফিস সহকারীকে টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করেন তিনি। দলিল করতে আসা একাধিক ভুক্তভোগী বলেন, এরকম একজন দুর্নীতিগ্রস্ত অফিসারকে বদলি বা ওএসডি করা না হলে বাড়বে জনভোগান্তি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা