• সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় অবৈধভাবে মজুদ করা ১ হাজার ৫০০ বস্তা সার জব্দ, গুদাম সিলগালা। জনসেবায় ভূমি সহকারী কর্মকর্তাবৃন্দের দায়িত্ব ও কর্মপরিধি কুষ্টিয়া ওলামায়ে পরিষদ আয়োজিত কোরআন প্রতিযোগিতায় আব্দুর রহমানের কৃতিত্ব  দর্শনায় রামাযুস আয়োজিত হাসান স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের নক আউট পর্বের শেষ খেলা অনুষ্ঠিত  নদী যখন যুদ্ধের অস্ত্র: একাত্তরের নৌ-অভিযানের সামরিক পাঠ আদালত ও পুলিশের নির্দেশ অমান্য করে দর্শনায় বৃদ্ধ চা দোকানির জমি দখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত  দর্শনায় আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত দর্শনা পৌর এলাকার ৫টি পূজা মন্দির পরিদর্শন করে আর্থিক অনুদান দিলেন আলহাজ্ব মশিউর রহমান  দর্শনায় পৌর বিএনপির সভাপতি হিসাবে মাহবুবুল ইসলাম খোকনকে ঘিরে আলোচনা চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের ৫৪টি পূজা মন্দিরে বিজেএমইএ’র সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবুর আর্থিক অনুদান প্রদান 

দর্শনায় তরমুজ চাষির কাছে সাড়ে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি,কুপিয়ে মোটরসাইকেল-মোবাইল ভাঙচুর

আদালত প্রতিবেদক / ৪৫ Time View
Update : সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬

আদালত প্রতিবেদক:

দর্শনায় এক তরমুজ চাষির কাছে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া তাকে মারধর ও মোটরসাইকেল এবং স্মার্টফোন ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী চাষি মজনু মিয়া আদালতে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন- দর্শনা থানা এলাকার মৃত লাল মোহাম্মদের ছেলে মো. হান্নান (৫০), মিলন (৪০), রাজু (৩৫) এবং উজলপুর গ্রামের মৃত বশির উদ্দীনের ছেলে বিপ্লব (৪০)।

মামলা সূত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা সদর থানার গাড়াবাড়ীয়া গ্রামের ছিতাব আলীর ছেলে মজনু মিয়া (৪২) দর্শনা থানাধীন হল্ট স্টেশনের সন্নিকটে ছটাঙ্গা মাঠে জমি লিজ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তরমুজ চাষ করে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় একটি চক্র বিভিন্ন সময় তার কাছে চাঁদা ও তরমুজ দাবি করে আসছিল। চাঁদা না দিলে তরমুজ ক্ষেত নষ্ট করে দেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হতো বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত বুধবার বেলা দেড়টার দিকে তারা ধারালো অস্ত্রসহ ছটাঙ্গা মাঠে উপস্থিত হয়। সেখানে তারা মজনু মিয়ার কাছে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা দেশীয় অস্ত্রের মুখে তাকে জিম্মি করে ফেলে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

এ সময় মো. হান্নান (৫০) রামদা দিয়ে মজনু মিয়ার মোটরসাইকেলে কোপ মারেন। কোপটি মোটরসাইকেলের ওপর রাখা ইনফিনিক্স স্মার্টফোনে লাগলে ফোনটি ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। পরে অন্যরা রামদা দিয়ে মোটরসাইকেলের বিভিন্ন অংশে কোপ মারেন। এতে প্রায় ৩ লাখ ১০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাক্ষী চন্দন ঘটনার প্রতিবাদ করতে গেলে মো. হান্নান রামদার উল্টো পিঠ দিয়ে তাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন। পরে উপস্থিত অন্যান্য সাক্ষীদের সহায়তায় ভুক্তভোগীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে জীবন রক্ষা করেন।

মামলার বাদী মজনু মিয়া জানান, সন্ত্রাসীদের অব্যাহত হুমকি ও হামলার কারণে বর্তমানে তিনি মাঠে গিয়ে তরমুজ চাষাবাদ করতে পারছেন না। এতে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। দর্শনা থানায় অভিযোগ জানিয়েও প্রতিকার না পেয়ে ন্যায়বিচারের আশায় আদালতের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান তিনি।

মজনু মিয়ার ছেলে রাফিউল হোসেন বলেন, এর আগেও হান্নান বিভিন্ন সময়ে তাদের কাছে চাঁদা দাবি করেছেন। এবারেও চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় আমরা জমিতে চাষাবাদ করার সময় হান্নানসহ আরও কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় আমরা ভয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

এর আগেও হান্নান আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন এবং চাঁদা না দিলে জমিতে চাষ করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন রাফিউল। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও মামলার সাক্ষী সাহেব বলেন, ‘আমি মজনু মিয়ার জমিতে কাজ করি। প্রতিদিনের মতো ঘটনার দিনও আমরা কাজের উদ্দেশ্যে মাঠে যায়। কাজ করার একপর্যায়ে হান্নান কয়েকজন লোকজনসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মজনু মিয়ার ওপর হামলা করেন। আমি হামলা ঠেকাতে গেলে আমাকেও মারধর করা হয়। চাঁদা না দিলে ওই মাঠে চাষ করতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেয় আমাদের।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা