• রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় অবৈধভাবে মজুদ করা ১ হাজার ৫০০ বস্তা সার জব্দ, গুদাম সিলগালা। জনসেবায় ভূমি সহকারী কর্মকর্তাবৃন্দের দায়িত্ব ও কর্মপরিধি কুষ্টিয়া ওলামায়ে পরিষদ আয়োজিত কোরআন প্রতিযোগিতায় আব্দুর রহমানের কৃতিত্ব  দর্শনায় রামাযুস আয়োজিত হাসান স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের নক আউট পর্বের শেষ খেলা অনুষ্ঠিত  নদী যখন যুদ্ধের অস্ত্র: একাত্তরের নৌ-অভিযানের সামরিক পাঠ আদালত ও পুলিশের নির্দেশ অমান্য করে দর্শনায় বৃদ্ধ চা দোকানির জমি দখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত  দর্শনায় আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত দর্শনা পৌর এলাকার ৫টি পূজা মন্দির পরিদর্শন করে আর্থিক অনুদান দিলেন আলহাজ্ব মশিউর রহমান  দর্শনায় পৌর বিএনপির সভাপতি হিসাবে মাহবুবুল ইসলাম খোকনকে ঘিরে আলোচনা চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের ৫৪টি পূজা মন্দিরে বিজেএমইএ’র সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবুর আর্থিক অনুদান প্রদান 

যে মসজিদের দেয়ালে নেই একটি পোড়া ইটও

মামুন অর রশীদ, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি / ৮৩ Time View
Update : বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬

মোঃ মামুন অর-রশীদ, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি:

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মাদারগঞ্জ গ্রামে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মসজিদ শুধু ইবাদতের স্থান নয়, পরিবেশবান্ধব নির্মাণেরও এক অনন্য বার্তা দিচ্ছে। মসজিদটির দেয়ালে নেই একটি পোড়া ইটও। প্রচলিত ইটের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব হলো ব্লক দিয়ে নির্মিত হয়েছে পুরো মাদারগঞ্জ জামে মসজিদ। পাঁচ ওয়াক্ত আজানের ধ্বনিতে মুখর এই মসজিদ এখন স্থানীয়দের কাছে ধর্মীয় স্থাপনার পাশাপাশি পরিবেশ সচেতনতারও একটি দৃশ্যমান উদাহরণ।
ইকো-সোশ্যাল ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে মসজিদটি নির্মাণ করেছে। ১ হাজার ৯০০ বর্গফুট আয়তনের মসজিদটি নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৬০০টি পরিবেশবান্ধব হলো ব্লক
জানা গেছে, আকারের হিসাবে একটি হলো ব্লক প্রায় চারটি প্রচলিত পোড়া ইটের সমপরিমাণ। সে হিসাবে মসজিদ নির্মাণে ব্যবহৃত ২ হাজার ৬০০টি হলো ব্লক প্রায় ১০ হাজার ৪০০টি পোড়া ইটের সমপরিমাণ নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও ঋতুচক্রের পরিবর্তনের মতো নানা প্রভাব যখন মানুষের জীবন ও প্রকৃতিতে দৃশ্যমান, তখন নির্মাণ খাতেও পরিবেশের ওপর চাপ কমানোর প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। এমন বাস্তবতায় পোড়া ইটের বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহারকে উৎসাহিত করতেই মাদারগঞ্জ জামে মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
মসজিদে নিয়মিত নামাজ আদায়কারী আব্দুল লতিফ, মুনসুর আলী, মোকলেসুর ও দুলালসহ স্থানীয় কয়েকজন মুসল্লি বলেন, মাদারগঞ্জ জামে মসজিদ নির্মাণের ফলে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের একটি প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। আগে নামাজ আদায়ের জন্য নানা অসুবিধায় পড়তে হতো। এখন সুন্দর, পরিপাটি ও স্থায়ী একটি মসজিদে প্রতিদিন শতাধিক মানুষ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করছেন।

তাঁরা বলেন, মসজিদটি শুধু নামাজের স্থান নয়, এলাকার মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ ও সামাজিক বন্ধনেরও একটি কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি হলো ব্লক দিয়ে মসজিদ নির্মাণের বিষয়টি তাঁদের কাছে নতুন অভিজ্ঞতা। আগে এ ধরনের নির্মাণসামগ্রী সম্পর্কে তেমন ধারণা ছিল না। এখন মসজিদের দেয়াল দেখে তাঁরা বুঝতে পারছেন, পোড়া ইট ছাড়াও পরিবেশবান্ধব উপকরণ দিয়ে সুন্দর ও টেকসই স্থাপনা নির্মাণ করা সম্ভব।

মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মো. আশরাফ আলী বলেন, একটি সুন্দর ও স্থায়ী মসজিদ ছিল মাদারগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। ইএসডিও সেই প্রত্যাশা পূরণ করেছে। এখন শতাধিক মুসল্লি এখানে সুন্দর পরিবেশে নিয়মিত নামাজ আদায় করতে পারছেন।
তিনি বলেন, বিশেষভাবে আনন্দের বিষয় হলো—মসজিদটি পরিবেশবান্ধব হলো ব্লক দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ধর্মীয় প্রয়োজন পূরণের পাশাপাশি এলাকার মানুষ নতুন ও পরিবেশবান্ধব নির্মাণপ্রযুক্তি সম্পর্কে জানার সুযোগ পাচ্ছেন। এমন মহতী উদ্যোগের জন্য মাদারগঞ্জবাসী ও মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে ইএসডিওর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।
মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. রায়হানুল ইসলাম বলেন, ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ মসজিদ নির্মাণ করে দেওয়া আমাদের জন্য বড় সহযোগিতা। এলাকার মানুষের একার পক্ষে এত বড় একটি কাজ বাস্তবায়ন করা কঠিন ছিল। ইএসডিও পাশে দাঁড়ানোয় আজ আমরা একটি সুন্দর মসজিদ পেয়েছি।
তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয় হলো, মসজিদটি পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী দিয়ে তৈরি হয়েছে। এই মসজিদ দেখে এলাকার অন্য মানুষও বাড়িঘর ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণে পরিবেশবান্ধব ব্লক ব্যবহারে আগ্রহী হবেন বলে আমরা আশা করি।
ইকো-সোশ্যাল ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)’র প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ড. মুহম্মদ শহীদ উজ জামান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন আর ভবিষ্যতের কোনো আশঙ্কা নয়; আমরা প্রতিনিয়ত এর প্রভাব অনুভব করছি। আগামী প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যেতে হলে উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে পরিবেশের কথা ভাবতে হবে। উন্নয়ন এমন হতে হবে, যা মানুষের প্রয়োজন পূরণের পাশাপাশি প্রকৃতির প্রতিও দায়িত্বশীল থাকে।

তিনি বলেন, পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী শুধু আলোচনা, প্রশিক্ষণ কিংবা প্রদর্শনীর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এর বাস্তব ব্যবহার দেখানো প্রয়োজন। মানুষ যখন নিজের চোখে দেখবে যে পোড়া ইটের কার্যকর বিকল্প ব্যবহার করেও সুন্দর ও টেকসই স্থাপনা নির্মাণ করা যায়, তখন এর ব্যবহার আরও বাড়বে। মাদারগঞ্জ জামে মসজিদ সেই চিন্তারই একটি বাস্তব উদাহরণ।
স্থানীয়দের মতে, ইটভাটার ধোঁয়া ও পরিবেশ দূষণের বিপরীতে পোড়া ইটের বিকল্প হিসেবে হলো ব্লকের এমন ব্যবহার শুধু একটি মসজিদ নির্মাণের গল্প নয়; বরং ভবিষ্যতের পরিবেশবান্ধব নির্মাণের পথ দেখানোরও একটি উদ্যোগ। আর তাই মাদারগঞ্জ জামে মসজিদে প্রতিদিন আজানের ধ্বনির সঙ্গে উচ্চারিত হচ্ছে পরিবেশ রক্ষারও এক নীরব বার্তা—ইবাদতের ঘর, পরিবেশেরও বন্ধু।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা